৩০০ কোটি টাকার পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যু করবে ঢাকা ব্যাংক

ঢাকা ব্যাংক পিএলসির পর্ষদ ৩০০ কোটি টাকার পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা নীতিমালা অনুসারে ব্যাংকটির মূলধন ভিত্তি বাড়াতে এ বন্ড ইস্যু করা হবে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা ব্যাংকের পর্ষদ। সভা শেষে এ-সংক্রান্ত একটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি।

২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ঢাকা ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩২ হাজার ৩৪৯। এর ৪৪ দশমিক ২৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ঢাকা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯৫ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৪৬ পয়সায়।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে ঢাকা ব্যাংকের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬৫ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ৬৪ পয়সায়।

ঢাকা ব্যাংকের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘‌এএ প্লাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-ওয়ান’। ব্যাংকটির ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৬৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৫৪ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরেও যা ছিল একই। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ২৬ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ২৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৬৫ পয়সায়।

২০২১ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ২৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৯ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২২ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৮ পয়সায়।

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে মোট ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। ২০১৯ হিসাব বছরে মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ৫ শতাংশ স্টক। এর আগের হিসাব বছরেও একই হারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার সর্বশেষ ১২ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

আরও